১. ওমেগা প্রাইম! এটা কি?

=> ওমেগা প্রাইম একটি সংগঠন। যা কাজ করে মূলত বিজ্ঞান নিয়ে। বিগতদিনে বাংলাদেশে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু একটি দেশ বা জাতির উন্নতির জন্য বিজ্ঞানের কোন বিকল্প নেই। কোন দেশের অর্থনীতি নির্ভর করে সে দেশে কতটা বিজ্ঞান চর্চা হয় তার উপর। সেক্ষেত্রে সারাদেশে সবার কাছে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি বিজ্ঞানচর্চা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যেই ওমেগা প্রাইমের যাত্রা শুরু হয়। বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ওমেগা তার গন্তব্যস্থলে প্রতিনিয়ত একটু একটু করে আগাচ্ছে। আর এই অগ্রযাত্রায় দেশের বিজ্ঞানমনস্ক সকলের পূর্ণ সহযোগিতাই আমরা কামনা করি।
আমরা বিশ্বাস করি যে, একদিন আমাদের দেশ হতে সকল প্রকার কুসংস্কার দূরিভূত হয়ে সকলেই বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত হবে। এ দেশে গড়ে উঠবে নাসা, ইসা, সার্নের মত গবেষণা সংস্থা। সারা বিশ্বের প্রযুক্তিখাতে আমাদের অবদান থাকবে উল্লেখযোগ্য। এসব স্বপ্ন পূরণেই কাজ করে যাচ্ছে ওমেগা প্রাইম…

২. এর কাজ কি?

ওমেগা প্রাইম সারা দেশে বিজ্ঞানচর্চা বৃদ্ধি ও জনপ্রিয় করার জন্য বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ হল-
* সারাদেশে বিজ্ঞানের মজার বিষয়গুলো নিয়ে বিষয়ভিত্তিক এক্সপার্ট/অধ্যাপক এর সহায়তায় লেকচারের আয়োজন করা।
* বিজ্ঞানের পরিক্ষাগুলো হাতে কলমে বোঝানোর জন্য কর্মশালার আয়োজন করা।
* মহাকাশ নিয়ে আমাদের কৌতুহলের সীমা নেই। সেই কৌত্যহলের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য পুরো শীতকাল আমরা টেলিস্কোপ নিয়ে জেলায় জেলায় ঘুরে বেড়াই। ‘ধ্রুবতারা’ নামে এই আকাশ পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প ওমেগা থেকে অন্য একটা সঙ্গঠনের সহায়তায় পরিচালিত হয়।
*প্রতিমাসে ‘আলোকবর্তিকা’ নামে বিজ্ঞান পত্রিকা প্রকাশ করা হয়।
*ওমেগা থেকে একটি চ্যারিটি সংগঠন পরিচালিত হয় যার নাম ‘সূর্যমুখী ফাউন্ডেশন’।

 

৩. এর উৎপত্তি কোথায়?

=> এর উৎপত্তি বাঁ এরকম একটা সংস্থা তৈরি করার পরিকল্পনা আমাদের উষ্ণ মস্তিস্কে। বিজ্ঞানের প্রতি ভালোবসা ও তৃষ্ণা থেকেই আমাদের ওমেগা প্রাইমের জন্ম। আর প্রধান কার্য্যালয়ের কথা বলতে গেলে বলতে হবে- গাজীপুরের টঙ্গী।

৪. প্রতিষ্ঠাতা কে?

=> এর কোন একক প্রতিষ্ঠাতা নেই। ৪ জন মিলে ওমেগা প্রাইম তৈরি করা হয়। তাই চারজনই সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আছেন। নাম বলতে হলে বলা যায় এরা হলেন- কামরুজ্জামান ইমন, ফয়সাল হোসেন খান, আশরাফ উল ইসলাম, শিহাব শিকদার। এ চারজনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাকগ্রাউন্ড হল সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ।

৫. এর Financial source কি?

=> যেকোনো প্রতিষ্ঠান চালাতেই প্রথমে অর্থের যোগান দিতে হয়। সেক্ষত্রে অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে যে ওমেগা যেহেতু অলাভজনক প্রতিষ্ঠান তো এর এতসব কর্মকান্ড চালাতে অর্থ আসে কোথা থেকে? অনেকে মনে মনে ভেবে নেন যে কোন অবৈধ উৎস থেকে আসে কিনা!? অনেকে ভাবেন কেউ হয়ত আমাদের স্পন্সর করছে।
আসল ব্যাপার কিছুই না। এখন পর্যন্ত ওমেগার কাজে যত খরচ হয়েছে তার পুরোটার যোগান দিয়েছে সহ-প্রতিষ্ঠাতা চারজনের পকেট।
কেউ কেউ বলবে ছাত্র হয়েও ৪ জন কিভাবে অত টাকার যোগান দিল!? আসলে ব্যাপারটা প্রশ্ন উদ্যেগকারী বটে। সন্দেহের কিছুই নাই। ফ্যামিলি থেকে আমাদেরকে প্রতিদিন যে হাত খরচ দেয়া হত তার পুরোটাই আমরা জমাতাম। রাস্তায় হাটতে গিয়ে কিছু খেতে মন চাইলে মনের সাথে বিদ্রোহ করে বিজ্ঞানের জন্য টাকাটা জমিয়েছি। রিক্সায় না গিয়ে হেটে গিয়েছি। এভাবেই আমাদের অর্থ যোগান হত। আর আমাদের টিউশনির টাকাতো আছেই। যেহেতু আমাদের ৪ জনেরই পরিবার মোটামুটিভাবে ধনী বলা যায়। সেক্ষেত্রে আমাদের হাত খরচের টাকার পরিমাণ মন্দ ছিল না। এভাবেই বিগতদিনে ওমেগার সকল অর্থের যোগান হয়েছে।
কিন্তু এভাবে আর কতদিন? দিনে ওমেগার কাজের পরিধি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খরচের পরিমাণ। ভালোভাবে বিজ্ঞান নিয়ে আগাতে চাইলে দরকার আমাদের প্রচুর টাকা। এদেশে এই বিজ্ঞান খাতে স্পন্সর করার মত প্রতিষ্ঠানের বরই অভাব। তাই নিজেদের অর্থের সংস্থা আমাদের নিজেদেরকেই করতে হবে। সেই পরকল্পনা মতেই ওমেগা থেকে কিছু লাভজনক ব্যাবসা কার্যক্রম পরিচালনা করার পরিকল্পনা করছে।
তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-
‘ডাকহরকরা’ নামে একটি পার্সেল ও কুরিয়ার সার্ভিস চালু হবে আগামী নভেম্বর ২০১৭ থেকে। একই সাথে চালু হবে দেশের প্রথম বিজ্ঞান ভিত্তিক ই-কমার্স সাইট ‘ওমেগা পয়েন্ট’। এ দুটো লাভজনক প্রতিষ্ঠানের একটা বড় অংশ ব্যয় হবে ওমেগার অলাভজনক বিজ্ঞান ভিত্তিক কার্যক্রমগুলো পরিচালনার জন্য। জানুয়ারী ২০১৮ থেকে ওমেগার বিজ্ঞান ম্যাগাজিনটি নতুন করে যাত্রা করবে ‘আলোকবর্তিকা’ নামে।
জানুয়ারী থেকে ওমেগার সকল জেলা সমন্বয়কারীকে ওমেগার কাজের সহায়তার জন্য মাসিক সম্মানী প্রদান করা হবে। ( এসবই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত)

৬. আপনি ওমেগা প্রাইমের সাথে কি ভাবে যুক্ত?

=> আপনি যদি নিজেকে বিজ্ঞানমনস্ক মনে করতে পারেন তাহলে আপনি এটাও মনে করতে পারেন যে আপনি ওমেগার সাথে যুক্ত। ওমেগা প্রাইম সারাদেশে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য যেসব কর্মকান্ড পরিচালনা করে সেসবে সাহায্য করে আপনি ওমেগার সাথে যুক্ত হতে পারেন। ওমেগা থেকে প্রচারিত বিজ্ঞান পত্রিকা ‘আলোকবর্তিকা’ পাঠের মাধ্যমে ওমেগার সাথে যুক্ত হতে পারেন। আরও যেভাবে পারেন তা হল- ওমেগার ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে নিয়মিত একটিভ থাকার মাধ্যমে। তবে অফিসিয়াল ভাবে ওমেগার সাথে যুক্ত হলে আপনাকে ওমেগার স্বেচ্ছাসেবক হয়ে কাজ করতে হবে। ওমেগা থেকে পরিচালিত কাজে সারাদেশে আমাদের প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে প্রতি জেলায় একজন জেলা সমন্বয়ক, একজন সহ- সমন্বয়ক এবং ১০ জন সদস্য নিয়ে জেয়া ভিত্তিক টিম গঠন করা হয়। নির্দিষ্ট ফর্ম পূরোনের মাধ্যমে শর্ত সাপেক্ষে আপনি ওমেগার সাথে অফিসিয়ালি যুক্ত হতে পারবেন।

ফর্ম লিংকঃ http://omegaprime.org/join-us/

৭. আপনার কাজ কি?

=> একজন জেলা সমন্বয়ক হিসেবে আপনি আপনার সহযোগীকে নিয়ে প্রথমে ১০ জনের টিম (সারা জেলা হতে) গঠন করবেন। পরবর্তীতে ওমেগা থেকে পরিচালিত কর্মকান্ডগুলো নিজ জেলায় পরিচালনা করবেন। জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সকল প্রকার আর্থিক খরচ ওমেগা থেকে বহণ করা হবে এবং বড় ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হলে ওমেগার কেন্দ্রীয় টিম মেম্বার উক্ত জেলায় উপস্থিত থাকবেন। এধরণের কাজের পাশাপাশি ওমেগার প্রোজেক্ট ’৮৬ হাজার গ্রামে ৮৬ হাজার বিজ্ঞান ক্লাব’ পরিচালনা করতে হবে। এ সম্পর্কে কেন্দ্রিয় টিম হতে সরাসরি ফোনে জানিয়ে দেয়া হবে। এসবের কাজের পাশাপাশি আরও বিজ্ঞান বিশয়ক টুকটাক কাজ করতে হবে।

৮. যদি আমি কাজ করতে চাই তাহলে আমাকে কি করতে হবে?

=> আপনি কাজ করতে চাইলে আগে আপনার বিজ্ঞানের প্রতি সদিচ্ছা থাকতে হবে। অতঃপর নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে হবে। আপনি বিবেচিত হলে পরবর্তী পদক্ষেপ অনুসারে আনুষ্ঠানিকতা শেষে আপনাকে ওমেগাতে কাজ করার সুযোগ দেয়া হবে।

৯. আমার ফ্রেন্ডরাও কি কাজ করতে পারে?

=> ইচ্ছা থাকলে অবশ্যই পারবে। তবে কাজ করতে হলে সবাইকেই যে মেম্বার হতে হবে তা নয়। যেকেউ ইচ্ছা করলেই কাজ করতে পারবে।

১০. আচ্ছা আমি কি চাইলে জেলা সমন্বয়ক হতে পারবো?

=> ইচ্ছা, উপযুক্ত অভিজ্ঞতা ও বিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা থাকলেই অবশ্যই পারবেন।