ছোট বেলা থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি একটা অন্যরকম ঝোক ছিল। চেয়েছিলাম দেশে একটা বিজ্ঞান সংগঠন গড়ে তুলতে। যখন এসব ভাবতাম তখন খুব ছোট ছিলাম। আর সেসময়ে কোন বিজ্ঞান সংগঠনও ছিল না বা থাকলে আমার জানা ছিল না। প্রথম যখন আমি নবম শ্রেণীতে পড়ি তখন হাতে ইন্টারনেট কানেকশন পাই। আর সেসময় ‘চিলড্রেন সাইন্স কংগ্রেস’ সম্পর্কে জানতে পারি। অবশ্য প্রথম কংগ্রেস সম্পর্কে জানতাম না কিন্তু দ্বিতীয় কংগ্রেসে অংশগ্রহণ করি। সেখানে অসংখ্য খুদে বিজ্ঞানীরা তাদের নিজ নিজ গবেষণা নিয়ে হাজির হয়েছিল। যা দেখে খুব ভালো লেগেছিল। কংগ্রেস থেকে যে অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। আগে ভাবতাম দেশে বুঝি বিজ্ঞানমনস্ক শিশু-কিশোর কম। কিন্তু কংগ্রেসে যেয়ে আমার সেই ধারনা ভাঙ্গে। সেখানে আমি দেখতে পেয়েছিলাম আইডিয়াতে জ্বলজ্বল করা অসংখ্য জোড়া চোখ। তো কংগ্রেসে যাওয়ার আগের দিন প্রিয় বন্ধু ফয়সালকে কংগ্রেসের ব্যাপারে জানাই। ও আসলে আগে জানত না, ওকে বলার সাথে সাথেই ও রাজি হয়ে যায়। কারণ বিজ্ঞানের প্রতি ওর আগ্রহ ছিল প্রবল। কংগ্রেসের দিন সকালে ওর গাড়িতে করে শাহবাগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরে হাজির হই কংগ্রেসের জন্য। ও দেরিতে জানতে পারায় শুধু কুইজে অংশগ্রহন করতে পারে। সেখানে অনেকের সাথেই পরিচিত হয়েছে যারা বিজ্ঞান নিয়ে ভাবে, স্বপ্ন দেখে। এর মধ্যে সবথেকে বেশি ঘনিষ্ঠতা হয় পাবনার নুরের সাথে।
কংগ্রেস থেকে যখন ফিরছিলাম তখন অন্যরকম এক অনুভূতি কাজ করছিল। চেয়েছিলাম দেশের বিজ্ঞানের জন্য আমাদেরই কিছু করতে হবে। আর আমি যেখানে থাকি; গাজীপুরে বিজ্ঞানের চর্চা বলতে গেলে একেবারেই নেই। সেখানে অবশ্য অনেক বিজ্ঞান মনস্ক শিশুকিশোর আছে। কিন্তু তারা উপযুক্ত সংগঠনের অভাবে একত্রিত হতে পারছিল না। তাই একটা বিজ্ঞান ক্লাব করার আইডিয়া মাথায় আশে তখন। ফয়সালকে সেটা জানালে ও আগ্রহ প্রকাশ করে আর সম্মতি জানায়। শুরুটা হয়েছিল দুইজনকে দিয়েই। আমি তখন ওকে বললাম যে, দুইজনে এতকিছু করা সম্ভব নয় , আমাদের আরো লোক দরকার। তখন ও দুইজনের কথা বলল। তারাও আমাদের ক্লাসেরই বন্ধু আশরাফ আর শিহাব। পরে ওদের ব্যাপারটা জানালেও ওরা আমাদেরকে সাহায্য করবে বলে জানায়। আসলে ওদের সাহায্য ছাড়া এতদুর আসা সম্ভব ছিল না। পরে আমরা চারজন মিলে আলচনা করে একটা নাম ঠিক করলাম ক্লাবের ‘ওমেগা সাইন্স ক্লাব’। সেখান থেকেই যাত্রা শুরু। এটা জানার পর স্কুলের অনেকই বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। তারাও বিজ্ঞানের জন্য কিছু করতে চায় এমন অভিমত জানায়। পরবর্তীতে আমরা ঠিক করলাম যে একটা ম্যাগাজিন বের করব আমাদের ক্লাবের থেকে। সেই ম্যাগাজিনের নাম ঠিক করা ‘ওমেগা প্রাইম’। চারজন মিলে একটা ওয়েবসাইট খুললাম আর সাথে কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আমরা হাতে নিলাম আরো কিছু প্রজেক্ট। কিন্তু সব কিছুতেই বাধা হিসেবে রইলো আমাদের পরীক্ষা। তাই কাজ রাখতে হল স্থগিত। তবে অক্টোবর মাসে আমরা ‘ওমেগা প্রাইম’ এর প্রথম সংখ্যা বের করতে সক্ষম হলাম। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ম্যাগাজিন পাঠানোর জন্য ডাক আসছিল। সবাই আগ্রহ দেখেচ্ছিল ম্যাগাজিনের ব্যাপারে। অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিও আমাদের সাহায্য করবে বলে আশ্বাস দিল। বেশ সাড়া পেলাম ম্যাগাজিনের ব্যাপারে। তাই খুব ভালো লাগছিল এই দেখে যে, দেশের মানুষের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। আমরাও কাজ করে যাচ্ছি বিজ্ঞানের জন্য। আশা করছি মার্চ মাসে আমাদের পরীক্ষা শেষ হয়ার সাথে সাথেই আমরা পুরোদমে কাজে লেগে যাব। আর এপ্রিল মাসে কাজ করে মে মাস থেকে নিয়মিত ‘ওমেগা প্রাইম’ ম্যাগাজিন বের করব। আশা করি এটা সারাদেশেই পাওয়া যাবে এবং দেশে বিজ্ঞান চর্চায় ভূমিকা রাখবে।
তো মোটামুটি শুরুটা এভাবেই ছিল, শেষটা যেন আসীম হয়…